বর্তমান নওগাঁ জেলার বদলগাছি থানার পাহাড়পুর গ্রামে প্রাচীন বৌদ্ধবিহার অবস্থিত।
'একসাথে আছি, একসাথে বাঁচি' বলতে কবি নানা প্রতিকূলতার বিরুদ্ধে বাংলার মানুষের ঐক্যবদ্ধভাবে সংগ্রাম করে টিকে থাকাকে বুঝিয়েছেন।
'আমার পরিচয়' কবিতায় কবি অন্যান্য দিকের সঙ্গে বাঙালির সংগ্রামী মনোভাব ও ঐক্যবদ্ধ চেতনার পরিচয় দিয়েছেন। বাঙালি বহু সংগ্রামের পথ পাড়ি দিয়ে অবশেষে স্বাধীনতার স্বপ্ন বাস্তবায়ন করেছে। বাঙালির এ অর্জনের পেছনে ছিল পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ ও একাত্মতা। একতাবদ্ধ হওয়ার কারণেই শত সংগ্রাম, দুর্যোগের পরও বাঙালির অস্তিত্ব টিকে আছে। বাঙালির এই অটুট বন্ধনের কথা বলতে গিয়েই কবি প্রশ্নোক্ত কথাটি বলেছেন।
উদ্দীপকের জয়নুল আবেদিনের অবদানের দিকটি 'আমার পরিচয়' কবিতায় ফুটে উঠেছে।
একজন শিল্পী একটি দেশের প্রতিনিধি। তিনি তাঁর শিল্পকর্ম দিয়ে বিশ্বের দরবারে নিজের দেশের প্রতিনিধিত্ব করেন। তাঁর শিল্পকর্মের সঙ্গে জড়িয়ে থাকে সে দেশের ইতিহাস-ঐতিহ্য।
উদ্দীপকে বাংলাদেশের বিখ্যাত চিত্রশিল্পী শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিনের কথা বলা হয়েছে। জয়নুল আবেদিন বাংলাদেশের একজন মহান শিল্পী। তিনি এ দেশের মানুষের বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রাম-প্রতিবাদ, শোষণ-বঞ্চনা এবং অভাব-দুর্ভিক্ষের ছবি এঁকেছেন। তাঁর তুলির আঁচড়ে বিভিন্ন সময়ে প্রতিবাদ ফুটে উঠেছে। 'আমার পরিচয়' কবিতায় কবি তাঁকে স্মরণ করেছেন বাঙালির সংগ্রাম ও ঐতিহ্য চেতনায়। কবি নিজের পরিচয় দিতে গিয়ে বলেছেন বাংলাদেশের সমৃদ্ধ ইতিহাস-ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির কথা। বিপ্লব-বিদ্রোহের কথা চিন্তা করে তিনি শিল্পী জয়নুল আবেদিনের অবদানকেও নির্দেশ করেছেন। কারণ তিনি বাংলার মানুষের দুর্ভিক্ষতাড়িত জীবন ও জগতের ছবি এঁকে অসামান্য এক জীবন-তৃষ্ণার পরিচয় দিয়েছেন। নিজের পরিচয় দিতে গিয়ে কবি বাঙালি জয়নুল আবেদিন থেকে আসার কথা বলেছেন। তাঁর পরিচয়ে কবি গর্ববোধ করেছেন। এভাবে উদ্দীপকের জয়নুল আবেদিনের অবদানের দিকটি 'আমার পরিচয়' কবিতায় প্রতিফলিত হয়েছে।
"উদ্দীপকটি 'আমার পরিচয়' কবিতার খণ্ডিত রূপায়ণ মাত্র"- মন্তব্যটি যথার্থ।
বাঙালির ইতিহাস-ঐতিহ্য অনেক সমৃদ্ধ। এই ইতিহাস-ঐতিহ্যের পেছনে বাঙালির সংগ্রামী চেতনা বিদ্যমান। বাঙালি এর জন্য বুকে লালন করেছে ঐক্যবোধের চেতনা।
উদ্দীপকে শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিনের অবদানের দিকটি তুলে ধরা হয়েছে। তিনি বাংলাদেশের এক মহান শিল্পী। তাঁর ছবিতে সংগ্রাম, প্রতিবাদ, বাঙালির জীবনসংগ্রাম, শোষণ-বঞ্চনা ও দুর্ভিক্ষের কথা ফুটে উঠেছে। বাঙালি জাতি এই মহান শিল্পীর কাছে চিরকাল ঋণী। কবি 'আমার পরিচয়' কবিতায় চর্যাপদের যুগ থেকে শুরু করে বাংলাদেশের স্বাধীনতা পর্যন্ত বাঙালি জাতিসত্তার সঙ্গে জড়িয়ে থাকা যে ইতিহাস-ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি তুলে ধরেছেন তার সঙ্গে তাঁকেও স্মরণ করেছেন। একইভাবে তুলে ধরেছেন সেই মহান ব্যক্তিদের কথা যাঁদের অবদানে আমরা আজ মাথা উঁচু করে বাঁচি। এখানে বাংলার মানুষের উদার ও অসাম্প্রদায়িক চেতনার প্রকাশ লক্ষ করা যায়।
উদ্দীপকে বাংলার একজন মহান চিত্রশিল্পীর অবদানের কথা প্রকাশ পেয়েছে। 'আমার পরিচয়' কবিতায় এ বিষয়টি ছাড়াও বাংলার সাহিত্য, ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির বিষয় ফুটে উঠেছে। কৈবর্ত বিদ্রোহ, পালযুগ, তিতুমীর, হাজী শরীয়ত, ক্ষুদিরাম, অবঠাকুর এবং বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে স্মরণ করা হয়েছে এই কবিতায়। এই প্রসঙ্গগুলো উদ্দীপকে নেই। এসব দিক বিচারে তাই বলা যায় যে, প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।
Related Question
View All১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!